নিজস্ব প্রতিবেদক :
বারবার বিব্রতকর মন্তব্য করে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপিকে বিপদে ফেলে দিচ্ছেন।
সম্প্রতি বিতর্কিত নেতা ডাক্তার মুরাদ হাসানকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা বলে দলের রোষানলে পড়েছেন ফখরুল। সঙ্গে বিগত ১৪ বছর ধরে দলের কোনো পরিবর্তন আনতে না পেরে উল্টো দলকে অকূলপাথারে ভাসিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার এমন উদ্ভট আচরণে এরই মধ্যে দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা পদত্যাগ করেছেন। জোট ছাড়ার আভাস দিয়েছেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানও। নতুন গুঞ্জন উঠেছে যে জোট ছাড়ার পরিকল্পনা করছে কল্যাণ পার্টি।
বলা হচ্ছে, তারেক-ফখরুলের সমন্বয়হীনতায় রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না বিএনপি। এ কারণে বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে এগিয়ে এসেছেন দলটির সাবেক নেতা ও বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ।
সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে এক গোলটেবিল আলোচনায় অলি আহমদ বলেন, বর্তমানে খালেদা জিয়ার পক্ষে আমাদেরকে নির্দেশনা দেওয়া সম্ভব না। তারেক রহমানের পক্ষে লন্ডন থেকে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকা সম্ভব নয়। সুতরাং সেই দায়িত্ব নিতে আমরা প্রস্তুত।
এ সময় তিনি বিএনপির নেতাদের নিজেদের মধ্যে কথা বলার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, কারা কারা আসবেন, আমাদের সঙ্গে আসেন। বিএনপি সংসদে গিয়ে সরকারের ভিত শক্তিশালী করেছে বলে মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ নীতি নির্ধারকদের কঠোর সমালোচনাও করেন অলি।
এদিকে অলি আহমদের এমন বক্তব্যের পর বিএনপির রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। অনেকেই বলছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে হটিয়ে পুরো দলের দায়িত্ব নিতেই অলি এমন আভাস দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলটির একজন নীতিনির্ধারক বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, বিএনপি এখন আর আগের সেই অবস্থানে নেই। অলি আহমদের বক্তব্য স্পষ্ট আভাস দিচ্ছে যে, বিএনপি নতুন নেতৃত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এছাড়া অলির মাধ্যমে আরো একবার প্রমাণিত হলো, বিএনপির প্রধান হতে অনেকেই স্বপ্ন দেখছেন। ভাবতেই অবাক লাগে, ২০ দলের কেউ কীভাবে তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলকে অস্বীকার করতে পারেন। যেহেতু অলি আহমেদ বলেছেন, তিনি বিএনপির দায়িত্ব নিতে চান, এ থেকেই প্রমাণিত হয় অলি আহমদ তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না।
Leave a Reply